সরকার পতন না হলে এই আন্দোলনে জড়িত সকলকে ধরে ধরে মার*আ হবে, যতো ছবি ভিডিও আছে সবগুলো থেকে বেঁছে বেঁছে এদেরকে খু* করবে হাসিনা সরকার।

২০১৮ তে যেভাবে এক কথা বলে ২০২৪ এ এসে আরেক কথা বলেছে তারা, সে একইভাবে রায় বদলে যাবে আবার। রক্তের দাগ হাতে নিয়ে কেউ দেশ শাসন করতে পারে না। তখন তারা স্বৈরাচারী হয়ে যায়, আরো বেশি প্যারানয়াতে আক্রান্ত হয়ে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

নরমাংসের স্বাদ পাওয়া বাঘকে যেমন বেঁচে থাকতে দিলে সে বারবার মানুষ শিকার করে তেমনি একবার রক্তে গোসল করার পর মানুষ আর মানুষ থাকে না ডাইনী হয়ে যায় তখন তার নিয়মিত বিরতিতে রক্তের দরকার পরে।

এই হত্যাযজ্ঞের খেলায় শেখ মুজিবের মতো বলতেই হচ্ছে,

“When you play with a gentleman, you play like a gentleman. But when you play with bastards, make sure you play like a bigger bastard. Otherwise, you will lose.”

উনার সুযোগ্য কণ্যার প্রেসক্রিপশন ধরেই তাই খেলতে হবে উনাদের game of thrones এর খেলা।

আমার ৩০ বছরের জীবনে অনেক কিছু দেখেছি। অনেক খুন, জখম, দুর্ঘটনা সরাসরি দেখেছি কিংবা ভিডুও দেখেছি।

নিজের হাতে দুর্ঘটনায় পরা ছিন্নবিচ্ছিন্ন মানুষদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মানুষ আমি। আন্দোলন সংগ্রাম, পুলিশের লাঠিপেটা – টিয়ারসেল, ছাত্ররাজনীতির প্রতিপক্ষের ছুড়া ককটেল, ঢিল কিল ঘুষি খাওয়া মানুষ আমি।

আমি সে প্রজন্মের মানুষ যখন ইন্টারনেটে কোনো সেন্সর থাকতো না, ইউটিউব, ভিউক্লিপ কিংবা বেস্টগোর এর মতো ভিডিও শেয়ারিং সাইটগুলায় আনসেন্সরড ব্রুটালিটি দেখেছি প্রচুর। কলম্বিয়া, এলসালভাদরের ড্রাগ কার্টেলের ব্রুটাল টর্চার কিংবা বাল্কায়দার মতো সন্ত্রাসীগ্রুপের খুনাখুনি অথবা ইরাক-আফঘান যুদ্ধের নির্মম ভিডিওগুলো দেখে বড় হওয়া মানুষ আমি।

আমি নিজেকে অনেক স্ট্রং মানুষ ভাবতাম, নিজের মাথা ফেটে রক্তে মাখামাখি হয়ে যখন রাস্তায় পরে ছিলাম তখনও নিজেকে এতোটা অসহায় লাগে নি, মানসিকভাবে দুর্বল লাগে নি। কিন্তু আমি আর পারছি না। দেশে ইন্টারনেট আসার পর থেকে যেসব ভিডিও দেখলাম, যেসব ব্রুটালিটি দেখতে হলো, আমার এই ট্রমা থেকে বের হতে কতোটুকু সময় লাগবে আমি জানি না।

একটা ভিডিওতে দেখলাম যে পরিমাণ হিংস্রতার সাথে পুলিশ বৃষ্টির মতো গুলি করতেছিলো, ব্যক্তিগত রোষানল ছাড়া শুধুমাত্র পেশাগত কারণে এইভাবে মারা সম্ভব না। আমার সিরিয়ান বান্ধবী যার সরাসরি যুদ্ধের ময়দানের অভিজ্ঞতা আছে, যে ট্রমার কারণে সে এখনো থেরাপি নিচ্ছে, সেই মেয়ে পর্যন্ত ভয়ে কেঁপে উঠেছে, এইভাবে যুদ্ধের ময়দানেও নির্বিচারে গুলি চলে না।

আমি কখনোই কারো প্রতি ঘৃণা প্রচারের পক্ষপাতী ছিলাম না, আমি কখনোই এটা বিশ্বাস করতাম না যে একটা গোষ্ঠীর সবাই ঘৃণা পাওয়ার যোগ্য। আমি আমার বিশ্বাসের পতন দেখেছি বাংলাদেশে, আমি আমার পতন দেখেছি, আমি মানুষের অধ:পতন দেখেছি, আমি ঘৃণা করতে শিখে গেছি।

শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রীসভা, তার হুকুমের গোলামেরা আর আওয়ামিলীগ এর সকল পদলেহনকারী বরাহ শাবকেরা তোমাদের সকলের প্রতি অন্তরের অন:স্থল থেকে সুতীব্র ঘৃণা।

I will witness against all of you oppressors at the day of judgment, that’s the least I will do.

‘কুল্লু জ্বোয়ালিমিনা ফী ন্বারি জাহান্নাম’

এই আন্দোলন বৃথা যায় নি। সবে তো মাত্র শুরু হলো। ভুলে যাবেন না স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চলেছিলো ৭ বছর। ১৯৮৩-৮৪ সালে সেনাবাহিনীর হামলায় জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দীপালী সাহা সহ অনেক ছাত্র/ছাত্রী নিহত হন। গণতন্ত্রের বরপুত্র নূর হোসেন শহীদ হন ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর, ডাক্তার মিলন শহীদ হন ১৯৯০ এর ২৭ নভেম্বর।

স্বৈরাচার বিরোধী সর্বাত্মক আন্দোলন চলে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ৪ ডিসেম্বর এরশাদের পতন পর্যন্ত।

শেখ হাসিনা সরকারের এই সাময়িক কথিত টিকে যাওয়াটা টিকে যাওয়া না। তার খুঁটি নড়ে গেছে, এখন সেই খুঁটিতে নাড়াতে থাকলে পরে যেতে সে বাধ্য। যে পরিমাণ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার পেটোয়া বাহিনি এক সপ্তাহে এরশাদের পুরো ৮ বছরেও এতো হত্যাকান্ড ঘটে নি। নৃসংসতার এই নজির স্বাধীন বাংলার ইতিহাসে নাই (‘৭২-‘৭৭ ছাড়া)। পুরো বিশ্ব দেখেছে তার নৃসংসতা, জাতিসংঘ, এমন্যাস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবাই সচেতন আছে। বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা এখন বিশ্বে সবচেয়ে তলানীতে, পতনের শুরু হয়েছে মাত্র।

হতোদ্যাম না হয়ে তালিকা তৈরী করেন দালালদের, আপনার চারপাশে খোঁজখবর রাখেন, কে কে প্রকাশ্যে নির্লজ্জ্বভাবে আপনার আমার সন্তান-ভাই-বোনদের রক্তের উপর বসে আনন্দ করে বেড়াচ্ছে। তালিকা করুন সেইসব খুনী পুলিশ, লীগ ও বাহিনীর লোকদের। হিসাব রাখুন। বিচার একদিন হবেই। আবার যখন আগুন জ্বলে উঠবে তখন এইসব তালিকা ধরে ধরে গণবিচার করতে হবে। সংগ্রাম শেষ হয়ে যায় নি এইটা সবেমাত্র শুরু।

আর বিএনপি, আপনারা বসে বসে লেওড়া চুষেন। আপনাদের চেনা হয়ে গেছে, হাজারটা ছেলেমেয়ে মারা গেলো আর আপনারা গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে বসে বসে মুড়ি খেয়েছেন। রাজনৈতিক শুয়োরদেরকে প্রতিহত করার জন্যে আপনাদের আসা উচিত ছিলো, আর কতো গণবিচ্ছিন্ন হবেন ? এইভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে থেকে গদির স্বপ্ন দেখা বাদ দেন। তরুণ প্রজন্ম যেমন এই আওয়ামীলীগকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে তেমনি আপনাদেরকেও ছুড়ে ফেলা হয়ে যাবে, এখনো সময় আছে রাজনৈতিক বুদ্ধিটা খুলেন।

সবশেষে ‘আই হেট পলিটিক্স’ মার্কা পোলাপান, মাইর খাওয়ার পরে বুঝতেছো তো এখন কেনো পলিটিক্স করা দরকার ? রাজনীতির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকলে এইভাবে মাইর খাইতে হতো না, ময়দানের পরিস্থিতি বুঝে আন্দোলন করতে পারলে হতাহতের সংখ্যা আরো কম হতে পারতো। প্রতিটা সংঘর্ষ, ধাওয়া পালটা ধাওয়া এর একটা রিদম আছে, যেটা ময়দানে রাজনীতি না করলে ধরা সম্ভব হবে না। যে পরিমাণ হিংস্রতা নিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ হামলা করেছে সেই হিংস্রতার প্রতিদানে এর সিকিভাগও দেখাতে পারলে এরা গায়েব হয়ে যেতো।

বাংলার নতুন গণ অভ্যুত্থানের শুরু হলো ১৬ জুলাই ২০২৪ থেকে।