আমাকে কাঁদতে দেখিস নি বলে ভাবিস না যে আমি হৃদয়হীন,

এই রুক্ষ সমাজ আমাকে শিখিয়েছে পুরুষের কান্নায় প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তি বেশি,

এই সমাজ আমাকে শিখিয়েছে পুরুষের কান্না কুৎসিত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনাদরের।

জ্ঞানত প্রথম যখন হাটতে গিয়ে পরে কেঁদে উঠেছিলাম আমাকে কেউ কোলে তুলে নিয়ে আদর করে দেয় নি,

পুনরায় দাঁড় করিয়ে পিছনে ধাক্কা দিয়ে বলেছিলো ‘হেঁটে যা পাগলা, ব্যাটা মানুষের কাঁদতে নেই।’

দাঁতে দাঁত চেপে হেঁটে যাচ্ছি ২৭ টি বছর।

বাবাকে কখনো কাঁদতে দেখি নি, নিজের জীবন যৌবন সব পরিবারের জন্যে ত্যাগ করে মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পূর্বে আমার হাত ধরে কেঁদে ফেলেছিলো আমার রব্ব। সন্তানের জন্য নাকি সে যথেষ্ট করতে পারে নি।

সেই কান্নায় অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছিলো আমার, জানি না আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিলো কি না। কিন্তু আমার সমস্ত অস্তিত্ব কেঁপে উঠেছিলো। আমার ইচ্ছে হচ্ছিলো সেই হাতদুটো বুকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠি। কিন্তু কাঁদতে পারি নি। আমি কেঁদে ফেললে যে আমার মালিকের শেষ সাহসটুকুও ভেঙে যাবে।

সেই পিতাকে স্বহস্তে গোড়ে রেখে এসেও কাঁদতে পারি নি। পুরুষ কাঁদে না, সে কান্নায় সান্ত্বনা দেয়। অন্ধকার ঘরে একা ডুকরে কেঁদে উঠা আর কারো বুকে মুখটা রেখে কেঁদে উঠা যে সমান নয় তা কী বুঝবি তুই?