সাংস্কৃতিক দেউলিয়া জাতি বুঝার সহজ একটা উপায় হচ্ছে সাংস্কৃতিক দ্বিচারিতা বা কালচারাল হিপোক্রেসি।

সহজ একটা উদাহরণ দেই, পাকিস্তানে কিছুদিন আগে চালানো এক জরিপে প্রায় সহস্রাধিক মানুষকে দুইটা প্রশ্ন করা হয়।

১ম প্রশ্ন ছিলো, “আপনি আগে মুসলমান নাকি পাকিস্তানি?” অনাশ্চর্যভাবে ৯৯% মানুষের উত্তর ছিলো তারা আগে মুসলমান পরে পাকিস্তানি।

২য় প্রশ্ন ছিলো, “পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের জন্যে যদি যুদ্ধ করতে হয় তবে তারা করবে কি না?”

এবং আশ্চর্যজনকভাবে ৯৬% মানুষের উত্তর ছিলো তারা মরতেও রাজি।

এই একই প্রশ্ন করা হয়েছিলো সাংস্কৃতিকভাবে অতি উচ্চ আসনে বসে থাকা কয়েকটি দেশকে একই প্রশ্ন করা হয়েছিলো, এদের উত্তরগুলোও অত্যন্ত আশ্চর্যজনক –

৯১% জার্মান নিজেকে আগে জার্মান পরে খ্রিস্টান/নাস্তিক মনে করে। তবে মাত্র ১৮% নিজের দেশের জন্য যুদ্ধ করতে রাজি আছে।

৮৬% ব্রিটিশ নিজেকে আগে ব্রিটিশ পরে খ্রিস্টান/(বা অন্যপরিচয়) মনে করে। তবে মাত্র ২৭% নিজের দেশের জন্য যুদ্ধ করতে রাজি আছে।

৯০% মার্কিনী নিজেকে আগে আমেরিকান ভাবে। তবে মাত্র ৪৪% আমেরিকার জন্য যুদ্ধ করতে রাজি আছে।

ধর্মগত দিক দিয়ে দেখা গেছে ৭৮% মুসলিম হিসেবে নিজেকে দাবি করা লোক নিজের দেশের জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত যদিও তারা আগে মুসলিম পরে তার নিজ দেশের নাগরিক।

ধর্মকে বাদ দিয়ে অঞ্চল হিসাব করলে একইভাবে ৮৩% মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জনগণ নিজ দেশের জন্য যুদ্ধ করতে রাজি।কিন্তু মাত্র ৪৩% উত্তর আমেরিকা (মার্কিন ও কানাডা) ও ২৫% পশ্চিম ইউরোপীয় নিজ দেশের জন্য যুদ্ধ করতে রাজি আছে।

ইউরোপের মানচিত্র দেখলেই বুঝা যায় যারা বেশি উন্নত ও যুদ্ধ থেকে যতো বেশি দূরে তাদের মধ্যে পরিচয় দেওয়ার প্রশ্নে দেশপ্রেম বেশি হলেও দেশকে রক্ষা করার ইচ্ছে কম।

আর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও দু:খজনক বিষয় হলো মুসলিমদের মধ্যে ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ কম থাকলেও রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত প্রবল। ইসলামে সর্ব ধরণের জাতীয়তাবাদ সম্পূর্ণ হারাম হলেও সাংস্কৃতিকভাবে মুসলমানরা এর একটা অংশ মানেন আর অন্যটা মানেন না।