আমার এক জার্মান চিজপ্রেমী কলিগ আমারে জিগাইলো, ‘তোমার দেশের স্পেশাল চিজ এর নাম কি?’

প্রায় আড়াই মিনিট চিন্তা করার পর মনে হইলো আমার দেশের তো কোনো স্পেশাল চিজ নাই। দুধ নষ্ট হওয়ার পথে থাকলে মাঝে মাঝে আমরা যেটা বানাই আদর কইরা ওইটারে পনির বললেও এইটা আসল পনিরের ধারে কাছেও না। তাইলে কী বাঙালীর চিজের প্রতি প্রেম নাই ? !

তারে কইলাম, ‘আমরা চিজ খাই না, আমরা ডিরেক্ট দুধ, ঘি, মাখন খাই, চিজ হইলো গরীবের খাবার আমরা গরিবের খাবার খাই না।’

ওইখানে মসকরা কইরা বললেও পরে বাসায় আইসা মনে হইলো আসলেই তো, আমরা গরিবি খাবারগুলা খাই না কেন ! গরিবি খাবার বলতে যে খাবার সংরক্ষণ করে রাখা হয় যেমন – চিজ, সল্টেড মিট, ক্যান ফুড, সসেজ, পিকল্ড ভেজিটেবল (আচার না কিন্তু) ইত্যাদি খাবারগুলা ঐতিহাসিকভাবেই দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যাভাবে থাকা জাতিগুলোর মধ্যে প্রচলিত।

অনেক সাধনার পরে আবিষ্কার করলাম আসলে আমরা ভৌগোলিকভাবে এতোটাই ভাগ্যবান যে আমাদেরকে কখনোই কোনো স্থায়ী খাদ্যাভাবে পরতে হয় নি। মানবসৃষ্ট কারণে ব্রিটিশ আমলে দুর্ভিক্ষ হয়েছে কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে কখনো আমাদেরকে অন্য ঋতুতে কি খাবো এইটা নিয়ে ভাবতে হয় নি। গ্রীষ্ম থেকে বসন্ত প্রতিটা ঋতুই আমাদেরকে হাতভরে খাবার দিয়েছে। আমাদেরকে জমাতে হয় নি কখনো কিছু। যা খেয়েছি সবসমই ফ্রেশ খেয়েছি। জমানো একটা জিনিসই রাখতাম আমরা সেটা হলো শুটকি। আর এই শুটকিও খাদ্যাভাবের জন্যে জমাতাম না আমরা, এইটা জমে যেতো মাত্রাতিরিক্ত মাছের কারণে যা আমরা খেতে পারতাম না তা শুটকি বানিয়ে রাখতাম। আমরা এতোটাই ধনী ছিলাম (এখনো হয় তো আছি শুধুমাত্র আমাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলা ভালো না বলেই দরিদ্রতার বোঝা বেয়ে চলছি)

Moral of the story: পরশুদিন ‘Economic Development’ পরীক্ষা। আর History of development পড়তে গিয়া এই জিনিসটা আবিষ্কার করলাম। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক নপুংসতার জন্যে সাবেক কলোনীগুলোর এই অবস্থা।