ইতিহাসের জঘন্যতম পরীক্ষা দিছিলাম গতকালকে।
বিভিন্ন ব্যাচের মোট ১০ জন পরীক্ষা দিতে গেছি। (ফার্স্ট টার্মে ৬০ জন পরীক্ষা দিছিলো, সেকেন্ড টার্মে আমরাই)
ভালো কথা খুব সুন্দর, প্রশ্ন পাওয়ার কিছুক্ষন পর থিকাই হালকা কান্নাকাটির আওয়াজ আসা শুরু হইছে বিভিন্ন দিক থিকা। দুই ঘন্টার নরকবাস শেষ হইবার পরে দেখলাম এক মেয়ে হু হু কইরা কানতাছে আর বাকি ৬ মেয়ে গিয়ে ওরে স্বান্তনা দিতাছে, সাথে আবার এক্সাম ইনভেজিলেটরও মাথায় হাত বুলাইয়া দিতেছে।
আর যে ৩ টা মিসকিন পোলা পরীক্ষা দিছি, আমরা চুপচাপ বাহির হইয়া একেক জন একেকভাবে আকাশের দিকে তাকাইয়া উদাস উদাস চোখে কান্না আটকাইবার চেষ্টা করতাছি। এরপরে আমাদের তিনজনেরই মনে হইলো একজনের আরেকজনরে স্বান্তনা দেওয়া উচিত। তিনজন যেহেতু তিন ব্যাচের নাম ধাম নিয়া এতোটা পরিচিতও না আমরা।
কিছুক্ষণ প্রফেসররে সম্মিলিত গালিগালাজের পরে তিনজনই একমত হইলাম ডিপ্রেসনে পরলে সবার আগে হেবি খাওয়াদাওয়া করতে হয়। তো তিনজন মিলে মিশে ডিপ্রেশনবিদ্বেষী খাওয়াদাওয়ার জন্যে একটা পশ টাইপ রেস্টুরেন্টে গিয়া ঢুকলাম। ১৫ মিনিট প্রফেসররে, ১০ মিনিট ভার্সিটিরে আর ৫ মিনিট নিজেদেরকে গালাগালি করার পরে যখন ওয়েটার আসছে অর্ডার নিতে তখন তিনজনই আবিষ্কার করলাম আমরা তিনজনই মুসলমান, তিনজনই রোজা রাখছি আর প্রত্যেকই অন্যজনের দুর্দিনে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যে রেস্টুরেস্টে নিয়া আসছি।
মাশাল্লাহ মন-মেজাজ খারাপ নিয়া রেস্টুরেন্টে ঢুকছিলাম। আনন্দের সাথে হাসতে হাসতে রেস্টুরেন্ট থিকা বাহির হইছি।
