১৪শ শতকের বিখ্যাত মরোক্কান ট্রাভেল ও ফুড ব্লগার জনাব ইবন বত্তুতা বাংলাদেশে ব্লগ করতে আইছিলেন। ঘুড়াঘুরি শেষ কইরা পরে চিটাগাং থিকা মালাক্কা যাইবার টাইমে ব্লগে লিখিলেন যে এই মরার দেশে সবকিছুই আছে কিন্তু মানুষগুলা ভালা না। এই জন্যেই এই দেশের নাম দিছিলেন ‘দোজখপুর নিয়ামত’। নিয়ামতে ভরা দোজখ।
আমার মনে হয় আজকে ৬০০ বছর পরেও বত্তুতার পুত এই দেশে আইলে একই কথা কইতেন। এই রঙ্গে ভরা বঙ্গ দেশে কোনোকিছুরই অভাব নাই, অভাব হইতাছে খালি ভালা মানুষের। এই দ্যাশে ট্যাকা থাকলে খালি বাঘের দুধ না বাঘের বাইচ্চাও মিলে। খেজুর, তেল, পেয়াজ, মাংশ কোনোকিছুর অভাব না থাকলেও দাম বাড়ে হুরমুর কইরা।
কথিত ৯০% মুসলমানের দেশ হইলেও এরা মুসলমান হইবার আগে যেহেতু বাঙালী সেইহেতু আমাদের আবহমান বাঙালী সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বাটপারি আর ভন্ডামি ছাড়তে পারি না। আইজ হইতে ৬০০ বছর আগেও ততকালীন বাঙালীরা দেশটারে দোজখ বানাইয়া রাখছিলো এখনো বানাইয়া রাখছে। সারা দুনিয়ায় সংসম ও আত্মসংসোধনের মাস রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমে, মানুষের দান খয়রাত করার পরিমাণ বাড়ে ও জীবনযাত্রা আর সহজ হয় সেইখানে দোজখবাসী বাঙালীদের খাসালত উলটা।
পুনশ্চঃ রমজান মাস আসার পরে একদিন মাত্র বাসায় রান্না করতে হইছে সেহরির জন্যে, এছাড়া প্রতিদিন ইফতার করা হয় মসজিদে তাও ফ্রী তে, আসার সময় সেহরির জন্যে খাবারও নিয়া আসা হয়, তাও ফ্রী তে। খেজুরের দাম ১০% কম Rewe, Kaufland or other non-muslim chain shop গুলাতে। আর মুসলিম দোকানগুলাতে আরো কম, এক তুর্কিশ দোকানে ফ্রী তে খেজুর দিতেছিলো দেখছিলাম।
