স্ত্রীকে অপমান করা অথবা অন্যায়ভাবে রাগের মাথায় ছেড়ে দেওয়া অথবা জোরপূর্বক স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে চাওয়ার ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?

এই ব্যাপারে একটি সম্পূর্ণ সুরা আছে কোরানে। সুরা আল-মুজাদিলা।

শান-ই-নুজুল হচ্ছে: হজরত খাওলা বিন্ত সালাবা (রা:) এবং উনার স্বামীর মধ্যকার হালকা ঝগড়া বিবাদ হয় এবং এক পর্যায়ে উনার স্বামী উনাকে তার মায়ের সঙ্গে তুলনা করেন এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। (তৎকালীন আরবে নিজের স্ত্রীকে নিজের মায়ের সঙ্গে তুলনা করা ছিলো স্ত্রীকে চুরান্তভাবে অপমান করা এবং কোনো কোনো গোত্রে এটাকে তালাকের সমমান হিসেবে ধারণা করা হতো)। খাওলা (রা:) সারারাত এই বিষয় নিয়ে দু:খিত ছিলেন এবং এই বিষয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন।

পরদিন উনার স্বামী বাড়িতে এসে সব ভুলে গিয়ে মিলিত হতে চাইলে হজরত খাওলা (রা:) রাজি না হওয়ায় তার স্বামী জোর জবরদস্তি করতে থাকলে খাওলা সেখান থেকে পালিয়ে রাসুল (স:) এর কাছে গিয়ে সবকিছু খুলে বলার সময় এই সুরা নাজিল হয়।

সুরা আল মুজাদিলাহ কোরানের ৫৮ নাম্বার সুরা এবং আয়াত ২২ টি। সুতরাং বুঝতেই পারতেছেন বেশ লম্বা সুরা।

শুধু প্রথম ৫ টি আয়াত তুলে ধরা হলো। বাকি যাদের জানার ইচ্ছা আছে নিজ দায়িত্বে জেনে নিবেন।

قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ

[৫৮ঃ১] যে নারী তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং অভিযোগ পেশ করছে আল্লাহর দরবারে, আল্লাহ তার কথা শুনেছেন। আল্লাহ আপনাদের উভয়ের কথাবার্তা শুনেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।

[58:1] Indeed, Allah has heard the argument of the woman who pleaded with you ˹O Prophet˺ concerning her husband, and appealed to Allah. Allah has heard your exchange.1 Surely Allah is All-Hearing, All-Seeing.

الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنكُم مِّن نِّسَائِهِم مَّا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ ۖ إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ ۚ .إِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنكَرًا مِّنَ الْقَوْلِ وَزُورًا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ

[৫৮ঃ২] তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মায়ের সাথে তুলনা দিয়ে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মা নয়। তাদের মা তো কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।

[58:2] Those who pronounce thihar among you [to separate] from their wives – they are not [consequently] their mothers. Their mothers are none but those who gave birth to them. And indeed, they are saying an objectionable statement and a falsehood. But indeed, Allah is Pardoning and Forgiving.

وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِن نِّسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِّن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا ۚ ذَٰلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

[৫৮ঃ৩] যারা তাদের স্ত্রীগণকে মায়ের সাথে তুলনা দিয়ে ফেলে, অতঃপর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা এই একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।

[58:3] And those who pronounce thihar from their wives and then [wish to] go back on what they said – then [there must be] the freeing of a slave before they touch one another. That is what you are admonished thereby; and Allah is Acquainted with what you do.

فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا ۖ فَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ۚ ذَٰلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۗ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ

[৫৮ঃ৪] যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।

[58:4] And he who does not find [a slave] – then a fast for two months consecutively before they touch one another; and he who is unable – then the feeding of sixty poor persons. That is for you to believe [completely] in Allah and His Messenger; and those are the limits [set by] Allah. And for the disbelievers is a painful punishment.

إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ كُبِتُوا كَمَا كُبِتَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَقَدْ أَنزَلْنَا آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ ۚ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ

[৫৮ঃ৫] যারা আল্লাহর তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা অপদস্থ হয়েছে, যেমন অপদস্থ হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীরা। আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

[58:5] Indeed, those who oppose Allah and His Messenger are abased as those before them were abased. And We have certainly sent down verses of clear evidence. And for the disbelievers is a humiliating punishment.

এখানে এটাই বলা হয়েছে যে যারা অন্যায়ভাবে স্ত্রীকে অপমান করবে বা রাগের মাথায় তালাক দিবে সে যেনো কোনো গোলাম আজাদ না করে স্ত্রীর নিকটবর্তী না হয়। যদি গোলাম আজাদ করতে অপারগ হয় তবে টানা দুই মাস (৬০ দিন) রোজা রাখে (কাফফারা)। তাও যদি অপারগ হয় তবে যেনো ৬০ দরিদ্র ব্যক্তিকে খাওয়ায়। তাও যদি কেউ না করে তবে সে আল্লাহ ও তার রাসুল (স:) এর আদেশ অমান্য করলো আর তাদের জন্য রয়েছে চুরান্ত অপমানজনক শাস্তি।