যেকোনো মৃত্যুতেই ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন’ পড়া উত্তম। সেটা হিন্দু মুসলিম ইহুদি নাসারা যার মৃত্যুই হোক। মৃত্যু আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় একসময় আমাদেরকেও মরতে হবে যতো বড় জ্ঞানী গুনী মালে মাল মালামাল হই না কেনো মরতে আমাদের হবেই। আর “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন” এর মানে হলো ‘সবকিছুই আল্লাহর কাছ থেকে আসে এবং সবই তার কাছে ফিরে যায়’। কোনোকিছু হারানো গেলে বা খোয়া গেলে বা যে-কোন দুঃসংবাদে এই দুয়া পড়াটা তাই উত্তম।
রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বেঁচে থাকতে একবার এক ইয়াহুদির শবযাত্রা যাচ্ছিল। রাসুলাল্লাহ (সাঃ) সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালেন এবং তারা চলে না যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়েই থাকলেন। তাঁর সাহাবারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটাতো একজন ইয়াহুদির শবযাত্রা ছিল! রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই মৃত্যু একটি ভয়াবহ ঘটনা। তাই কোন মৃতদেহ নিয়ে যেতে দেখলে উঠে দাঁড়াবে।
আরেকটি বর্ননায় আছে,
সাহ্ল ইব্নু হুনাইফ ও কায়স ইব্নু সা’দ (রাঃ) কাদিসিয়াতে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাচ্ছিল। (তা দেখে) তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা তো এ দেশীয় ধিম্মী ব্যক্তির (অমুসলিমের) জানাযা। তখন তারা বললেন, (একদা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাঁকে বলা হল, এটা তো এক ইয়াহুদীর জানাযা। তিনি এরশাদ করলেনঃ সে কি মানুষ নয়?
রাসুলাল্লাহ (সাঃ) শিখিয়েছেন মুসলিম অমুসলিম যারই হোক মৃতদেহকে সম্মান করতে।
রাসুলাল্লাহ (সাঃ) শিক্ষার বিপরীত করে কোন ইসলামের হেফাজত হল?
[হাদিস সূত্রঃ সুনান আবু দাউদ ৩১৭৪, সুনান ইবনু মাজাহ ১৫৪৩, সহিহ বুখারি ১৩১২। প্রকাশনাভেদে হাদিসের ক্রম সামান্য এদিক সেদিক হতে পারে]
