পথের ধারে ক্লান্ত পরিসরে বসে কী ভাবছো তুমি, পথিক ?
গভীর কোন দার্শনিক চিন্তা, নাকি নিতান্তই হালকা কবিতা?
আচ্ছা,
এখনো কি কবিতা আসে?
নাকি গদ্যেরা শুধু ভীর করে?
এখনো কি জ্যোৎস্না তোমাকে ভাবায়?
নাকি আলোটা নকল বলে তোমাকে কাঁদায়?
কি হলো কিছু বলছো না কেন, পথিক?
তুমি কি খুবই ক্লান্ত?
স্নান করবে, নাকি চা খাবে?
দেব নাকি জল?
কি আশ্চর্য দেখো দু’টুতেই জলের প্রয়োজন-
একটাতে হিম শীতল অন্যটাতে ফুটন্ত।
কোনটা লাগবে বলো?
নাকি অন্য কোন তরল নেবে?
দেব নাকি দু’এক পেগ ভদকা, হুইস্কি, জিন, রাম?
রামটাই নাও,
নামটা কেমন জানি দেশি দেশি লাগে।
আচ্ছা রাম আছে লক্ষ্মন নেই কেনো,
আর জিন আছে ভুত নেই কেনো?
আজ থেকে ভদকার নাম লক্ষ্মণ,
আর হুইস্কির নাম ভুত, কেমন?
আচ্ছা রবীন্দ্রনাথ কি কখনো সুরাপান করেছেন?
আমার মনে হয় করেছেন।
কি বিশ্বাস হয় না?
কেন হবে না?
উনি যখন বিলেতে ছিলেন তখনও কি করতে পারেন না?
তাছাড়া এ ধরণের সৃজনশীল কাজে এক আধটু সুরা চলতেই পারে, কি বলো?
আজকালতো এসব না খেলে আবার জাতে উঠা যায় না,
যারা খায় না তারা কবি হয় না, তাদের কবিতাও হয় না,
শুধু জঞ্জাল হয়।
আরে আরে, যাচ্ছ কোথায়?
খাবারটা খেয়ে যাও, আমাদের কি আর সুরাপানের সুযোগ আছে?
সাহেবেরা খায় আমরা দেখি, আবার ফালায় আমরা পরিষ্কার করি।
এই তো আমাদের কাজ।
বন্ধু পথিক খেয়ে নাও বাসী ভাতটুকু,
সাথের হাড়টা মজা করে খেও কিন্তু,
এসব কিন্তু সাহেব সুবোদের খাবার, ভদ্রভাবে খাবে।
কুকুরটা খাচ্ছে আর আমি কথা বলে যাচ্ছি,
আমার একমাত্র বন্ধু,
প্রতিদিনই আসে, ঘুরে ফিরে চলে যায়।
বিশাল এক আলিশান দালানের ক্ষুদ্র প্রহরী আমি,
আমার জন্য এরচেয়ে ভালো বন্ধু হয় না।
আধুনিক নষ্ট হয়ে যাওয়া এই সমাজে আমাদের কোন ভেদাভেদও নেই।
