পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখের, সবচেয়ে যে কাজটি কঠিন –
পিতার অংসে করা যে বহন পুত্র’শবের কফিন;
যে সন্তানেরে পালিল পিতা রক্ত পানি করে,
সে সন্তানেরে কেমন করে রাখিবে সে গোড়ে।
কত আদরে, কত সোহাগে আগলে রাখিল বুকের ধন
কিন্তু হায়, কে জানে কার মৃত্যু আসিবে কখন!
যাবার কথা ছিল যে আগে (বৃদ্ধ) সেই পিতার,
তবু হায় তার আগেই খুঁজে পেলো পুত্র মরণের দ্বার।
যখন আসিয়া আজরাঈলে লইবে কাহারো প্রাণ,
একের বদলে করিবে না কবজ, সে যে অন্যের জান।
তাহা হইলে মরিত না কভু সন্তান পিতার আগে
পিতাই দিত বক্ষ পাতিয়া মরনের ভিখ মাগে।

খোদার নিয়ম কভু খণ্ডানো নাহি যায়,
মরন যাহার আসিবে যখন, মরিতেই হবে তায়।
নাই নাই কোন আপিল সেথায়, নাই কোন দস্তখত,
মালাকুল মঊত আসিবে যখন শুনবে না কারো মত।
লইবে সে প্রাণ নিরবে- সরবে বুঝিবে না কারো ব্যাথা –
মেনে নিতে হবে, মানতেই হবে তা; এটাই নিষ্ঠুর মানবতা।

পিতৃহৃদয় কি বুঝে সে কথা?
হার মানে তার ব্যাথার কাছে এহেন মানবতা।
তাই তো সে করে প্রার্থনা, জোড় করি দুই হাত –
‘ হে রহিম রহমান
লহ হেতা তুমি মোরে
ফিরিয়ে দাও মোর সন্তানের প্রাণ।’

কিন্তু এযে অসম্ভব, কখনোই হবার নয়,
পিতার কাতর দীর্ঘশ্বাস তাই বাতাসেই ভেসে রয়।

2012