দেখিনু সেদিন গেটে
ঝাড়ি দিলো এক লাইলি ‘তার মজনু কেন এতো বেটে?’
চোখ ফেটে এলো জল
এমন করে কি মজনু জাতি, ঝাড়ি খাবে তোরা বল!
যেই মজনুর মানিব্যাগে চড়ি প্রতিদিন চলি যাও
কেএফসি, স্পাইসি, চিকচিকেনে হাবিজাবি কত খাও।
‘গিফট দিয়াছ?’ চুপ রও যত চিনির মাছির দল
গিফটের দাম কত ছিল তবে মুখ ফুটে আজ বল।
ক্লাসের শেষে পড়েছে মনে, করোনি নোট ফটোকপি
তোমার নোটের তরে সে দিয়াছে, নিজের জীবন সপি।
করে নাই ক্লাস নিয়মিত, ছিল ব্যস্ত লাইব্রেরিতে
রাতটাকে দিন করেছে তোমারে, হ্যান্ড নোট করে দিতে
‘অমুক আপু পরেছে কানে, যেমন কানের দুল
এনে দিতে হবে ঠিক তেমনি, নইলে চক্ষুশূল।
দিয়াছে আনিয়া পৃথিবী ভাঙিয়া, যেমনটা চেয়েছিলে
জিজ্ঞাসা কি করেছ কভু ‘কেমন করিয়া পেলে?’
তুমি জান না জানে ওই গাছপালা আর কিলো-রোড
যখন বলেছ ‘বেটে’ , তার দিলে লেগেছে কেমন চোট!

আসিতেছে শুভদিন
এইবার লাইলির ঘাড় হইতে নামাইতে হইবে জীন!
অঝর ধারায়, প্রখর রোদে যে ধরেছে তোমায় ছাতা
পরীক্ষার আগের রাতে যে কিনে দিয়েছে তোমায় খাতা।
ঈদ কিংবা পুজার ছুটিতে যখনই গিয়াছ বাড়ি
টিকিট কাটিতে গিয়াছে সে, বন্ধু- আড্ডা ছাড়ি।
ষ্টেশনে তোমারে দিয়াছে আগায়া, টেনেছে তোমার ব্যাগ
ক্ষেত্র বিশেষে লাগায়ে দিয়াছে তোমারই ব্যাগের ট্যাগ।
রিক্সা তোমার লাগে না ভালো, সিএনজি’তে করে যাবে
সমস্যা নাই! উঠে বস তুমি !! ভাড়াটা তো সে’ই দিবে ।
এমন করে আর চলিবে না দিন, ওরে ও চাঁদের কনা
নিপীড়িত আজ জেগেছে, তাদের কণ্ঠ যাচ্ছে শোনা ।
তুমি চলিবে সামনে, তোমার মজনু চলিবে পিছে
অথচ তোমারে ডাকিবে ‘জানু’ এমন ধারনা মিছে ।
হাসিলে হবেনা, এমন হাসি হেসেছ অনেক তুমি
গিফট যতগুলো দিয়াছে তোমারে, সবটাই ছিল দামি ।
যতগুলো টাকা নিয়াছ তুমি, বিভিন্ন অজুহাতে
পাই পাই করে এবার যে তার হিসাবটা হবে দিতে ।

 

কাজী নজরুল ইসলাম এর কুলি মজুর কবিতার প্যারোডি

thanks to friend ফয়সাল চৌধুরী